রাজ্য সংস্কৃতি

ব্রাত্যজনেদের জন্মদিন পালন শান্তিপুর “নবজাগরণের”

মলয় দে, নজরে বাংলা, শান্তিপুর (নদীয়া) : কাজলী মাসি, বলাই দা, বাপি দা এরকম পদবিহীন নামের কিছু মানুষ পথের ধারে পড়ে থাকে বিড়বিড় করে কি সব বলে। পড়ে থাকা ডাস্টবিনের খাবার খায়, পরনে শত জীর্ণ মলিন জামাকাপড় পরা কিছু মানুষকে বর্তমান সভ্য সমাজে ব্যস্ততার অজুহাতে অনেকেই দেখেও না দেখার ভান করে চলে যান পাশ থেকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা এ ধরনের ছবিতে লাইক কমেন্ট করে অভ্যস্ত আমরা।

কিন্তু শান্তিপুরের একদল স্কুলপড়ুয়া হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে ব্যথিত হয়ে মানসিকভাবে নবজাগরিত করতে পেরেছিলো শান্তিপুরের সাধারণ মানুষের মন। মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন এই ব্রাত্যজনেদের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড না থাকায় অথবা থাকলেও না জানার ফলে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত তারা। কিন্তু তাতে কী এসে যায়! সমাজ সংস্কার করতে দরকার হয় আবেগ ভালোবাসা অনুভূতির। আইন নয়।
বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাড়ির উদ্বৃত্ত খাবার (কখনো বা আগে থেকে বলে রাখা) নিয়মিত রেল স্টেশন, হসপিটাল বা পথের পাশে পড়ে থাকা অবহেলিত মানুষদের সন্তানসম যত্নে লাগাতার দু’বছর ধরে নিয়ম করে খাইয়ে যাওয়ার কারণে আত্মীয়তা তৈরি হয় আন্তরিকতার।
সফল সদস্যরা ঠিক করল এদের জন্মদিন পালন করবে, কিন্তু জন্মের দিন তো কারো জানা নেই! আবার অন্য দিবসের মতো “অন্নদিবস” ও তো নেই! কিন্তু হার মানতে নারাজ সদস্যরা। অবশেষে সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নেয় পয়লা জুলাই ডাক্তার দিবসের দিন তা পালন করবে এই জন্মদিন। রীতিমত ঘটা করে, নতুন বস্ত্র পরিয়ে, পায়েস খাইয়ে পালন হল “ব্রাত্যজনেদের জন্মদিন”।

NB

Leave a Reply