রাজনীতি রাজ্য

হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার ওঠার পর শনিবার কল্যাণীতে মুকুল রায়

মলয় দে, নজরে বাংলা, কল্যাণী (নদীয়া) : কলকাতা হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ওঠার পরেই শনিবার কল্যাণীতে ডাঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির জন্মবার্ষিক অনুষ্ঠানে হাজির হওয়ার জন্য প্রথম মুকুল রায় পা দিলেন নদীয়া জেলায়। উল্লেখ্য, মুকুল রায়ের নদিয়ায় ঢোকার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল কলকাতা হাইকোর্ট । গত মার্চ মাসে সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের মামলা সংক্রান্ত শুনানির পর হাইকোর্টের তরফে জানানো হয়েছিল, আগামী 8 সপ্তাহ পর্যন্ত মুকুল রায়কে গ্রেপ্তার করা যাবে না। সেইসঙ্গে এই নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল যে তিনি নদীয়ায় ঢুকতে পারবেন না। কিন্তু সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের ঘটনায় হাইকোর্টে যে চার্জশিট সিআইডি গত মে মাসে পেশ করেছিল তাতে মুকুল রায়ের নাম ছিল না। সেই প্রেক্ষিতেই হাইকোর্ট এই মামলা থেকে অব্যাহতি দিল মুকুল রায়কে। সেইসঙ্গে তাঁর উপর নদীয়া জেলায় প্রবেশ করা নিয়ে যে নিষেধাজ্ঞা ছিল তাও তুলে নিল। এখন থেকে নদীয়া জেলায় ঢুকতে পারবেন এই নেতা।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির ৯ তারিখ খুন হন নদীয়ার তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস। সত্যজিৎ খুনের ঘটনায় কার্তিক মণ্ডল এবং সুজিত মণ্ডল নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খুনের ঘটনায় এফআইআর দায়ের করে জেলার তৃণমূল নেতারা। মোট ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিজিৎ পুন্ডারি, কার্তিক মণ্ডল, কালিদাস মণ্ডল, সুজিত মণ্ডল ও মুকুল রায়। এরপর ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ মুকুল রায় হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানান। ১৩ তারিখ হাইকোর্ট তাঁর আগাম জামিন মঞ্জুর করে।

এরপর গত ৫ মার্চ এই মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফে সরকারি আইনজীবী শ্বাশত গোপাল মুখার্জি খুনের ঘটনায় তখনও পর্যন্ত যা তদন্ত হয়েছিল তার রিপোর্ট পেশ করেছিলেন হাইকোর্টে। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছিলেন, কিছু ফরেনসিক রিপোর্ট তখনও আসতে বাকি আছে। এরপরই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি জানিয়েছিলেন, আগে সম্পূর্ণ তদন্ত রিপোর্ট আসুক তারপর আবার শুনানি হবে এই মামলার। সেইসঙ্গে আগামী ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত মুকুল রায়কে গ্রেপ্তার করা যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে তিনি নদীয়া জেলায় ঢুকতে পারবেন না। তারপর গত মে মাসে সিআইডি যে চার্জশিট পেশ করেছিল তাতে নাম ছিল না মুকুল রায়ের । এরই প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এই মামলা থেকে অব্যাহতি দিল মুকুল রায়কে। পাশাপাশি মুকুল রায়ের নদীয়ায় ঢোকার উপর যে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছিল, তাও তুলে নিল হাইকোর্ট।

এই মামলার শুনানির জন্যই কলকাতা হাইকোর্টে এসেছিলেন মুকুল রায়। সঙ্গে ছিলেন ছেলে ও বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়ও। মুকুল রায়ের আইনজীবী শুভাশিষ দাশগুপ্ত বলেন, ” কৃষ্ণগঞ্জের হাসখালি থানার মামলায় মুকুল রায়ের নাম ছিল। আগাম জামিনের আবেদন করেছিলাম। একটা প্রোটেকশন দেওয়া হয়েছিল যে গ্রেপ্তার করা যাবে না। ওনার নদীয়াতে ঢোকার ক্ষেত্রে যে বাধা ছিল সেটাও আদালত তুলে নিল।

NB

Leave a Reply