ক্রাইম রাজ্য

প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক উদ্ধার রামপুরহাটে

সব‍্যসাচী মুখার্জি, নজরে বাংলা, রামপুরহাট (বীরভূম) :  মাঠের মধ্যে নির্মিত একটি ঘর থেকে প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক ও মশলা উদ্ধার করল রামপুরহাট থানার পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে ওই বিস্ফোরক উদ্ধার করে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে এর আগেও ওই বাড়ি থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার করেছিল পুলিশ।

বীরভূমের রামপুরহাট থানার রদিপুর এবং বড়জোল গ্রামের মাঝে কামড়াডাঙ্গা এলাকায় ফাঁকা মাঠে জঙ্গল ঘেরা এলাকায় কয়েক বছর আগে একটি বাড়ি নির্মাণ করেন রদিপুর গ্রামের বাসিন্দা পবন ঘোষ। সেই বাড়িতেই মজুত রাখা হত বিস্ফোরক। এর আগেও ওই এলাকা থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে সেখানে যে নিয়মিত বিস্ফোরক হাত বদল হয় তা পুলিশের অজানা ছিল না বলে দাবি অনেকের। সোমবার বিকেলের দিকে ওই রাস্তা দিয়ে বড়জোলের দিকে যাচ্ছিল রামপুরহাট থানার গাড়ি। গাড়িতে ছিলেন রামপুরহাট থানার আইসি সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়। কামড়াডাঙ্গা ফাঁকা মাঠের কাছে এক যুবককে পালাতে দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। এরপর সেখান থেকে ২০ বস্তায় ৪২ হাজার ডিটোনেটর এবং ২৪৮ বস্তা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার করা হয়। সন্দীপনবাবুর দাবি, বিস্ফোরক গুলি কালভার্টের নিচে এবং ক্যানেল পাড়ে ত্রিপল ঢাকা দিয়ে রাখা ছিল। পুলিশের গাড়ি দেখে পবন ঘোষ ছুটে পালাতেই সন্দেহ হয়। তারপর গভীর রাত পর্যন্ত ওই বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। বুধবার সকালে সেখানে যায় বোমা বিশেষজ্ঞ দল। তারা বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে আর কোনও বিস্ফোরক লুকিয়ে আছে কিনা দেখেন। পুলিশ পবনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। ওই বিস্ফোরক পাথর খাদান এলাকায় ব্যবহার করার জন্য না অন্য কোনও নাশকতার জন্য রাখা ছিল তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যদিও গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ওই এলাকায় নিয়মিত বিস্ফোরক লেনদেন হয়। ভোরের দিকে আর সন্ধ্যার দিকে ছোট গাড়িতে বিস্ফোরক নিয়ে আসা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে মোটরবাইকে সেই বিস্ফোরক বেলপাহাড়ি জঙ্গলের রাস্তা ধরে ঝাড়খণ্ড চলে যায়। এলাকাটি ঝাড়খণ্ড সীমান্ত এলাকায় হওয়ায় খুব সহজেই বিস্ফোরক পাচার করা হয়। বিস্ফোরক পাচারের ফলে এলাকায় সমাজবিরোধীদের আনাগোনা বেড়ে চলেছে। একশ্রেণীর পুলিশের সঙ্গে বোঝাপড়ার মাধ্যমেই প্রতিদিন বিস্ফোরক পাচার হয়ে আসছে।

NB

Leave a Reply