নাটক বিনোদন

বিশ্বের দূষণময়তার করাল গ্রাসে ‘স্বপ্নচর’-এর “গোগল যখন একা”

স্বপন কুমার দাস

‘গোগল তোর চোখ দু’টোকে জ্বালিয়ে রাখিস, সামনে ভীষণ অন্ধকার।’ চাঁদের কাতর আহ্বান গোগলের কাছে। “গোগল” হারিয়ে যেতে বসেছে বিশ্বের দূষণময়তার করাল গ্রাসে। মানব সভ্যতার যান্ত্রিকতার আবর্তে পড়ে হারিয়ে যাচ্ছে গোগলের অকৃত্রিম বন্ধু– পাখি, গাছ, মাছ, বন্যপ্রাণীরা। আমরা কেহই কী ‘গোগল’ হবার কথা একবার ভাবতে পারি না! ছোট্ট ‘গোগল’ মানুষের চোখের দরজা খুলে দিয়েছে! দিয়েছে মনের অন্তরাত্মাকে নাড়া! মানুষের মেকি ভাবনার একমুখী আস্ফালনে গোগলের মত মানুষেরা চিরকাল প্রান্তিক হতে হতে ক্রমশই একা হয়ে পড়েছে। অনুভূতিপ্রবণ মানুষদের একাকিত্বের যন্ত্রণাবিদ্ধ ভেলায় ভাসার কাহিনী নিয়ে মহঃ সেলিমের সংগীত, নাটক ও নির্দেশনায় “গোগল যখন একা”। রবিবার “স্বপ্নচর” নাট্যদলের এই নতুন প্রযোজনার দ্বিতীয় মঞ্চায়ন হয়ে গেল ‘শিল্পায়ন স্টুডিও থিয়েটারে’ গোবরডাঙ্গার সংস্কৃতি আঙিনায়।


নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন অনিন্দিতা বৈদ্য, স্নেহা হালদার, সাগ্নিক বিশ্বাস, সম্পৃক্তা গুহ, সৌমিতা রায়, অভিজিৎ দাস, সৌরভ বিশ্বাস, মৈনাক গুহ এবং সুদীপ্তা দাস। আরেকজনের নাম বাদ চলে গেছে! না, এটা সম্পূর্ণই ইচ্ছাকৃতভাবে। রোহিত গাইন। খুবই গরিব পরিবার, তথাকথিত বস্তির একচালা থেকে উঠে এসেছে রোহিত। ষষ্ঠ শ্রেণীর এই ছাত্রের অভিনয় মুন্সিয়ানার জন্য তাই আলাদা করে নাম উল্লেখ করতে হল। ওর জন্য শুভ কামনা রইল। চাঁদের চরিত্রায়নে সুদীপ্তা দাসের অভিনয়ে গোবরডাঙ্গার এক নাট্যদলের বরিষ্ঠা অভিনেত্রীর ছাপ বিশেষ ভাবে লক্ষ্য করা গেছে। সেক্ষেত্রে নাটকের প্রাসঙ্গিকতা না পাল্টালেও কুশিলবের নিজস্বতা বজায় রাখলে ভালো লাগতো।

নাটকের আলোক পরিকল্পনা: আশিস চট্টোপাধ্যায়, আলোক সঞ্চালনা: রাজু ভট্টাচার্য, রূপসজ্জা ও পোশাক পরিকল্পনা: সুদীপ্তা দাস, মঞ্চ ভাবনা ও উপকরণ: প্রিয়েন্দুশেখর দাস, মঞ্চ নির্মাণ: সুধাংশু বিশ্বাস, আবহ সহযোগী: সৌরভ বিশ্বাস, ব্যাংক স্টেজ ম্যানেজমেন্ট: সম্পা গুহ ও সন্তু বিশ্বাস, বিশেষ কৃতজ্ঞতা: দীপা ব্রহ্ম।

Share this:

NB

Leave a Reply