রাজ্য

তৃণমূল নেতার এই দাদাগিরিতে অসুস্থ ময়ূরেশ্বরের বিএলআরও

সব্যসাচী মুখার্জি, নজরে বাংলা, রামপুরহাট (বীরভূম) : ব্যস্ত থাকায় পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষর ফোন ধরতে পারেননি। বেজায় চটে কর্মাধ্যক্ষ অফিসে ঢুকে ময়ূরেশ্বর ১ বিএলআরওকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজের পাশাপাশি হুমকি দিলেন কর্মাধ্যক্ষ। যার জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বিএলআরও। তাঁকে মল্লারপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। তৃণমূল নেতার এই দাদাগিরি ঘিরে ব্লক জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, ময়ূরেশ্বর ১ বিএলআরও অফিসে এদিন জায়গা জমি সংক্রান্ত বিবাদের শুনানির দিন ছিল। ফলে গোটা অফিস জুড়ে বহু মানুষের সমাগম হয়েছিল। একইদিনে জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিকের ভিডিও কনফারেন্স থাকায় ময়ূরেশ্বর ১ ব্লকের বিএলআরও মৃত্যুঞ্জয় দত্ত স্থানীয় বিডিও অফিসে যান। বিকেল চারটে নাগাদ তিনি কনফারেন্স সেরে নিজের অফিসে ফেরেন। এরপরই স্থানীয় তৃনমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির ভূমি কর্মাধ্যক্ষ বসির খান এসে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করেন। তাঁর অভিযোগ, সকাল থেকে এত মানুষ বসে আছেন। তার উপরে তিনি বিএলআরওকে ফোন করলেও ধরেননি। বিএলআরও কিছু বলার আগেই উপস্থিত সাধারণ মানুষের সামনেই বিএলআরওকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ দিতে থাকেন। সেই সঙ্গে চলে হুমকি। বিএলআরও বার বার বলার চেষ্টা করেন আমি বিডিও অফিসে কনফারেন্সে ছিলাম। কিন্তু কর্মাধ্যক্ষ তা বিশ্বাস না করে বলেন, আমাকে বিডিও দেখাবেন না। আমার উপরে কথা বলবেন না। সেইসঙ্গে চিটিংবাজ, ধাপ্পাবাজ বলার পাশাপাশি চড়িয়ে আধমরা করে দেওয়ার হুমকি দেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, বাদরামি ছাড়িয়ে গলাধাক্কা দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেব। শাসকদলের নেতার দাদাগিরি দেখে ভয়ে সেঁটে যান দপ্তরের কর্মীরা। এদিকে ক্রমাগত হুমকির জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বিএলআরও। এরপরই সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন কর্মাধ্যক্ষ। পরে দপ্তরের কর্মীরা তাঁকে মল্লারপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করেন। তাঁর ইসিজি সহ অন্যান্য চিকিৎসা করানো হয়। এদিন বিকেলে তাঁকে দেখতে যান রামপুরহাট মহকুমা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক সুব্রত সরকার। তিনি বলেন, বিএলআরও হার্টের রোগী। হেনস্থার জেরে তিনি এখনও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে ঘুমের ইনজেকশন দেওয়ায় তিনি অচৈতন্য অবস্থায় রয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের আজকে ভিডিও কনফারেন্স ছিল। সেজন্য বিডিও অফিসে বিএলআরও এবং রেভিনিউ অফিসাররা গিয়েছিলেন। প্রায় তিনঘন্টা ধরে কনফারেন্স চলে।

এদিকে বিএলআরও অফিসে মিউটেশনের জন্য অনেকে এসেছিলেন। ওই লোকেরা অনেকক্ষণ ধরে বসে থাকায় বিএলআরওকে ফোন করেন কর্মাধ্যক্ষ। কিন্তু বিএলআরও কনফারেন্সে থাকায় ফোন ধরতে পারেননি। ফলে বিকেলের দিকে ওই কর্মাধ্যক্ষ অফিসে এসে বিএলআরওকে গালিগালাজের পাশাপাশি অফিসে নানা ভাবে হুমকি ও অফিসে তালা মেরে দেওয়ার কথা বলেন। তিনি বলেন, অফিসার সুস্থ হলেই থানায় অভিযোগ জানানো হবে। এদিকে গালিগালাজ ও হুমকির কথা অস্বীকার করে কর্মাধ্যক্ষ বলেন, এই বিএলআরও টাকা ছাড়া কিছুই বোঝেন না। এদিন যে তিনি অফিসে থাকবেন না সেটা নোটিশ দিয়ে জানাতে পারতেন। সাধারণ গরিব মানুষদের তাহলে সকাল থেকে অফিস চত্বরে না খেয়ে বসে থাকতে হত না। কখন তিনি অফিসে আসবেন সেটা জানতে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তাই আমি বলেছি, যাদের টাকায় আপনি বেতন পান, তাঁদের সঙ্গে অন্যায় করলে বা ফিরিয়ে দিলে বরদাস্ত করব না। তিনি বলেন, ঘটনার সময় এক দেড়শো মানুষ ছিল। আমি যদি গাল দিয়ে থাকি সেটা প্রমান করতে পারলে গলায় জুতোর মালা নিয়ে ঘুরব। এব্যাপারে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বনানী রায় বলেন, ঘটনা ঘটেছে বিএলআরও অফিসে। ফলে ঘটনার বিস্তারিত না জেনে কোন মন্তব্য করব না।

অন্যদিকে, এলাকার বিধায়ক তথা তৃণমূলের ময়ূরেশ্বর ১ ব্লক সভাপতি অভিজিৎ রায় বলেন, আমি বিধানসভায় রয়েছি। এলাকায় ফিরে খোঁজখবর নিয়ে দলের পক্ষ থেকে ওই কর্মাধ্যক্ষর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

NB

Leave a Reply