বিনোদন সংস্কৃতি

শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ১৮৪তম আবির্ভাব তিথি পালন “বেড়ী শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রম”-এর

স্বপন কুমার দাস

মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল। বর্তমানে ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন। জীবনের সমস্ত সময়টাই ব্যয় করেছেন ছাত্র-ছাত্রীদের জীবন গঠন করতে। কিন্তু তিনি এখানেই থেমে থাকেননি। জীবনের প্রায় পুরোটা সময় ধরে তিল তিল করে জমানো অর্থ দিয়ে তৈরি করেছেন “বেড়ী শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রম”। এই আশ্রম তৈরির পিছনে তাঁর নিষ্ঠা ও ঈশ্বরের প্রতি ভক্তির অমোঘ টানে নিজের মেয়ের বিয়ের টাকাও তুলে দিতে দ্বিধা করেননি শিক্ষক মহাশয়। আর এই জনসমাজ সেবামূলক কাজে হাত লাগিয়েছেন এই আশ্রমেরই সম্পাদিকা ব্রহ্মচারিণী অসীমা। ব্রহ্মচারিণীর সঙ্গে কাজের ভার তুলে নিয়েছেন আরও চারজন মমতাময়ী ব্রহ্মচারিণীরা।

এই আশ্রমেই চলে অনাথ শিশু ও গ্রামের শিশুদের শিক্ষাদান, প্রতি বৃহস্পতিবার হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা ব্যবস্থা, স্থানীয় হতদরিদ্র গ্রামবাসীকে বিভিন্ন সময়ে সাহায্যের হাত বাড়ানো, শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ভাবধারাকে তুলে ধরা সহ সমাজসেবা মূলক কাজ। ভগবান শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ১৮৪তম আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে প্রত্যেক বছরের মতো এবছরও তাঁরা আয়োজন করেছিলেন বাত্সরিক উত্সব। ৭ ও ৮ এপ্রিল এই দুই দিন ধরে চলছে বিভিন্ন আধ্যাত্বিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ভোরে মঙ্গলারতি, বেদপাঠ, স্তবপাঠ, গীতাপাঠ, ঠাকুরের পুজো, চণ্ডীপাঠ, শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ কথামৃত পাঠ, ভক্তিগীতি, হৃদয়পুর শ্রী রামকৃষ্ণ সারদা পাঠচক্রের পরিবেশনায় গীতি আলেখ্য অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বেলঘরিয়া রামকৃষ্ণ মিশন ও কলিকাতা বিদ্যার্থী আশ্রমের কর্মসচিব শ্রীমত্ৎস্বামী একাব্রতানন্দজী মহারাজ এবং দেরাদুন কিষাণপুর রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের কর্মসচিব শ্রীমত্ৎস্বামী অসীমাত্মানন্দজী মহারাজ ও অধ্যাপক অরিজিত্ৎসরকারের এক শাস্ত্রজ্ঞ ধর্মসভায় উপস্থিত ভক্তরা একাগ্র চিত্তে বিলীন হয়ে গিয়েছিলেন। এছাড়াও ছিল বেড়ী গোপালপুর আদর্শ বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের নাটক ‘ভারততীর্থ’, বনগাঁ ট্যাংরা কলোনীর সূধান‍্য স্মৃতি নাট্যসংস্থার পরিচালনায় মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে ধর্মমূলক যাত্রাপালা ‘কুরুক্ষেত্রে কাঁদে দূর্যোধন’। সোমবার সন্ধ্যায় রয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও দূরদর্শনখ্যাত ভজন দাস বৈরাগ্য সহ অন‍্যান‍্য শিল্পীর বাউল সংগীত।

সমবেত ভক্তবৃন্দ ও দর্শকদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছিল নরনারায়ণ সেবা এবং “গোবরডাঙ্গা তাঁরা মা সেবা সংস্থার” উদ্যোগে লস‍্যি বিতরণ। এদিন ঠাকুরের আশীর্বাদ পেতে মানুষের মধ্যে এক আন্তরিক প্রচেষ্টা লক্ষ‍্য করা গেছে। শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের বানীতেই একথা ফুটে ওঠে, “যদি তুমি সত্যিকারেই পাগল হতে চাও, তাহলে সাংসারিক বস্তুর জন্য পাগল হয়ো না, বরং ভগবানের ভালবাসায় পাগল হও।”

NB

Leave a Reply