কলকাতা দেশ রাজ্য

মহিলাদের সার্বিক উন্নয়নে ব্রতী রাজ্য সরকার

নজরে বাংলা ডেক্সঃ মহিলারা যে তৃণমূল কংগ্রেসের অগ্রগণ্যের তালিকায় স্থান পায় দলের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে অন্য দলগুলির থেকে এগিয়ে। ৩৫ শতাংশ মহিলা প্রতিনিধি রয়েছেন সংসদীয় পরিকাঠামোয়; ৫০ শতাংশ পঞ্চায়েত ও পৌরসভায়। মহিলাদের সার্বিক উন্নয়নের প্রশ্নে তাই বার বার মুখ্যমন্ত্রীর চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটেছে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসের পদযাত্রার শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে ধরা পড়ল এমনই পরিসংখ্যান। আট বছরে মুখ্যমন্ত্রীর ঐকান্তিক উদ্যোগে রাজ্য সরকার মহিলাদের শিক্ষা প্রদান থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে নিয়েছে একগুচ্ছ পদক্ষেপ। পূর্ব ভারতের প্রথম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলায়। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে দেখে নেওয়া যাক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্ররণায় সেরকমই কয়েকটি উদ্যোগ। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন :আনুমানিক ৭০ লক্ষ দরিদ্র মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে সাড়ে পাঁচ লক্ষ ক্রেডিট কার্ড সংযোগ করা হয়েছে। মিশন মিলিয়ন ড্রিমস: ২ বছরে মিশন মিলিয়ন ড্রিমসে ১০ লক্ষ মহিলাকে জীবনজীবিকা উন্নত করার সম্পদ প্রদান করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেশীর ভাগ মহিলাই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর। আনন্দধারাঃ আনন্দধারা প্রকল্পে ৬৭৪৪৭২টি সম্পূর্ণ মহিলা চালিত স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে গ্রামীণ অঞ্চলে। পোল্ট্রি এবং ছাগল পালনের জন্য ২৫০০০টি স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে ৩১.৫০ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে। স্বাস্থ্যঃ ২০১০ সালে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার ছিল ৬৫ শতাংশ রাজ্য সরকারের ঐকান্তিক চেষ্টায় তা বেড়ে হয়েছে ৯৭.৫ শতাংশ। ওয়েটিং হাটঃ ওয়েটিং হাটে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রসূতিরা বিনামূল্যে থাকতে, পুষ্টিকর আহার পেতে পারেন। পাশাপাশি থাকে চিকিৎসাগত সুবিধাও। প্রতিটি ওয়েটিং হাটে ২৪ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ডাক্তার ও নার্স থাকে। প্রসঙ্গত, এই ব্যবস্থাটি দেশের মডেল হিসেবে মান্যতা দিতে সংসদীয় কমিটি প্রস্তাব করেছে। মাতৃ যানঃ এই প্রকল্পে সরকারি টাকায় কেনা সকল অ্যাম্বুলেন্স জেলায় জেলায় পাঠানো হয়েছে। এই প্রকল্পে বিনামূল্যে প্রসূতিদের বাড়ি থেকে নিকটতম সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। বাংলা মাতৃ প্রকল্পঃ এই প্রকল্প চালু হয় ২০১৮ সালের ১লা জানুয়ারি। প্রথম সন্তান হলে মায়েরা তিন খেপে মোট ৫ হাজার টাকা পাবেন। সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যাবে ১ হাজার টাকা। এই টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য শিশুর সুস্বাস্থ্য। মধুর স্নেহঃ মধুর স্নেহ নামে দুধের ব্যাঙ্ক তৈরী করা হয়েছে। মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাবঃ ১৩টি মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাবের আরও উন্নতি করা হচ্ছে। মাতৃত্বকালীন ছুটিঃ মহিলাদের সুবিধার্থে, রাজ্য সরকারের কর্মরতা মহিলাদের মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায় মিলিয়ে মোট ‘ম্যাটারনিটি অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার লিভে’ ২ বছর পর্যন্ত ছুটি পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য সাথী স্মার্ট কার্ডঃ স্বাস্থ্য সাথী গ্রুপ বীমার অন্তর্গত, গত মাসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুবিধাভুক্ত পরিবারের মহিলাদের স্বাস্থ্য সাথী স্মার্ট কার্ড প্রদান করা হয়েছে। এই কার্ডগুলি করা হয়েছে পরিবারের মহিলা সদস্যাদের নামে। এর ফলে ঐ মহিলার পরিবারের পাশাপাশি সেই মহিলার বাবা মাও চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। সবুজশ্রীঃ এই প্রকল্পে ২৪ লক্ষ সদ্যোজাত শিশুদের ৩১সে ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত দামী গাছের চারা প্রদান করা হয়েছে। যখন শিশুটি পূর্ণবয়স্ক হবে, তখন ঐ গাছটি বিক্রী করে তাদের শিক্ষা চালাতে পারবে। স্বাস্থ্যকর্মীঃ ন্যাশানাল রুরাল হেলথ মিশনের অন্তর্গত আশা, আইসিডিএস কর্মীদের বেতন দেয় রাজ্য সরকার। তাদের জীবনযাত্রা সহজ করতে গত বছর রাজ্য সরকার তাদের বেতনও বাড়িয়েছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যা, আশা কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ী কর্মীদের এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। নার্সঃ ২০১১ থেকে সরকার ২৭টি নার্সিং প্রশিক্ষণ স্কুল চালু করেছে। সেরা নার্স ও ডাক্তারদের স্বাস্থ্য পুরস্কারও দেওয়া হয়। বেতন বৃদ্ধিঃ ২০১৮ সালের ১লা অক্টোবর থেকে ৫০ হাজার আশা কর্মীদের বেতন মাসিক ২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা করা হয়েছে। আইসিডিএস কর্মীদের বেতন বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করা হয়েছে। অঙ্গনওয়াড়িতে নিযুক্তিঃ সম্প্রতি সরকার আরও ৩৩৭৬ জন আঙ্গনওয়াড়ি কর্মী নিযুক্ত করার ঘোষণা করেছে। সামাজিক উন্নতিকরনঃ মহিলাদের সামাজিক উন্নতিকরন, বিশেষত যৌনকর্মীদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা হয়। স্বাবলম্বন প্রকল্পঃ এই প্রকল্পরে জরি, হাতের কাজ, তাঁত বোনা, বিউটিশিয়ান, কমিউনিটি হেলথ, বস্ত্র নির্মান, কাঠের কাজ শেখানো হয়। এই প্রকল্পের অধীনে যৌন কর্মীদের জন্য আরেকটি প্রকল্প শুরু করা হয়েছে তাদের স্বনির্ভর করার জন্য। তাদের বিনোদন জগতেও কাজের সুযোগ দেওয়া হয়।

মুক্তির আলোঃ এই প্রকল্প যৌনকর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য। তাদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা ছাড়াও ট্র্যাফিকিঙ্গের হাট থেকে বাঁচাতে এই প্রকল্প। পিঙ্ক ট্যাক্সি পরিষেবাঃ ২০শে ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী একটি নতুন ট্যাক্সি পরিষেবার সূচনা করেন। গতিধারা প্রকল্পের অধীনে মহিলাদের গাড়ির মালিক হওয়ার পাশাপাশি চালিকা হয়ে অর্থ উপার্জন করতে সরকার থেকে ১.৫ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হয়। সরকার ১০০০ ট্যাক্সির পরিকল্পনা নিয়েছে। মহিলাদের জন্য আইন প্রনয়নঃ রাজ্য সরকার ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ নিয়েছে মহিলাদের বিরুদ্ধে যেকোনো অপরাধের ক্ষেত্রে। এর জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মোট ৫২টি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট। মহিলা পুলিশ স্টেশনঃ ২০১১ থেকে এখন পর্যন্ত ৪৮টি মহিলা পুলিশ স্টেশন চালু হয়েছে। নারী পাচার এবং শিশু অপরাধঃ নারী পাচার বিরোধী ইউনিট এবং বিশেষ জুভেনাইল পুলিশ ইউনিট তৈরী করা হয়েছে প্রতি জেলায়।উইনার্সঃ উইনার্স নামে কলকাতা পুলিশ একটি শাখা তৈরী করেছে। তারা স্কুটারে করে রাস্তায় রাস্তায় নজরদারি চালায় মহিলাদের ওপর কোনও অপরাধ আটকাতে। কর্মরতা মহিলাদের হোস্টেলঃ কর্মরতা মহিলাদের ন্যায্য মূল্যে থাকার ব্যবস্থা করতে হোস্টেল খোলা হয়েছে। কর্মাঞ্জলিঃ কলকাতার পাঁচ জায়গায় মোট ৩০১টি শয্যা বিশিষ্ট হোস্টেল নির্মাণ করা হচ্ছে। বিধবা ভাতাঃ বিধবা ভাতা দেওয়া হয় মহিলাদের। পথসাথীঃ মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীদের হাতে দেওয়া হয়েছে পথসাথী চালানোর দায়িত্ব। সংরক্ষণঃ ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ও মিউনিসিপ্যালিটিতে ৫০ এবং মহিলা আসন সংরক্ষণ করা হয়েছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীঃ প্রায় ৯০ হাজার স্বনির্ভর দল গঠন করা হয়েছে যার ৯০% শতাংশ মহিলা। ১০০ দিনের কাজে মহিলাদের অংশগ্রহণ ৪৮%-যা একটা রেকর্ড। রাজ্য জুড়ে ১ লক্ষ ১৫ হাজারের বেশী অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের মাধ্যমে ৬ বছরের নীচে ৭৬ লক্ষ শিশু এবং ১৪ লক্ষ গর্ভবতী ও স্তন্যদায়িনী মহিলাদের পুষ্টির ব্যবস্থা।

NB

Leave a Reply