কলকাতা দেশ রাজ্য

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা দিলে অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন : অভিষেক

নজরে বাংলা, গঙ্গাজলঘাঁটি (বাঁকুড়া) : বৃহস্পতিবার বাঁকুড়া জেলার গঙ্গাজলঘাঁটি রাধামাধবপুর ফুটবলমাঠে এক সরকারি অনুষ্ঠানে বাঁকুড়া জেলার ৪টি ব্লকে (গঙ্গাজলহাটি, মেজিয়া, ইন্দাপুর এবং তালডাঙ্গা) জনস্বাস্থ্য দপ্তরের পানীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন করেন  ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের আইন, শ্রম ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী মলয় ঘটক এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর এবং জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা, জেলাশাসক ও সরকারি আধিকারিক সহ ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তরের সদস্যরা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিনের সভার শুরুতেই বলেন, আজকের দিনটি ঐতিহাসিক কারণ আজ এখানে কয়েকটি জল প্রকল্পের উদ্বোধন হল, বাঁকুড়া মুকুটমণিপুর এইসব এলাকায় জলের খুব সংকট তাই আমি নিজে দেখব যাতে আগামী ২ বছরের মধ্যে যাতে সব বাড়িতে জল পৌঁছে যায়। আগের সরকার কোনদিন তৎপর হয়ে কাজ করেনি, মন্ত্রী, পঞ্চায়েত, পুলিশ, প্রশাসন থেকেও ছিল না।
২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর ৬০-৬৪% মানুষ পানীয় জল পাচ্ছে, আমাদের এটা ১০০% করতে হবে, এটাই আমাদের আজকের অঙ্গীকার।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা কথা দিয়েছিলেন তা তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। অনেকে চেয়েছে উন্নয়ন যাতে না হয়, অনেকে বড় বড় কথা বলেছে, কেস করেছে, উন্নয়নের মাধ্যমেই মুখ্যমন্ত্রী তাদের জবাব দিয়েছেন।
জাতি দল মত নির্বিশেষে আমাদের সরকার উন্নয়ন করে। আমরা ধর্মের ভিত্তিতে নির্বাচন করি না, মানুষ আমাদের নির্বাচিত করে, আমরা মানবধর্মে বিশ্বাসী। আমরা ফাঁকা কলসির মতো বড় কথা আর কাজের বেলায় লবডঙ্কা, সেই সরকার নই। আগে বাঁকুড়ায় মাওবাদীদের সন্ত্রাস হত আর বারুদের গন্ধ পাওয়া যেত এখন সেখানে শান্তি বজায় রয়েছে, জঙ্গলমহলে কোন মাওবাদী মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি।
কেন্দ্রের সরকার ৫ বছর রয়েছে, একটা উন্নয়নের কাজ ও ওরা করেনি। ওরা মাথায় ফেট্টি বেধে রাস্তায় নেমে বিভাজনের নামে সমাজকে অশান্ত করছে। আগামিদিনে বাংলার মানুষ আপনাদের জবাব দেবে। ওরা নকল দেশপ্রেমকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে, এটা লজ্জার। ভারতের সেনা দেশের গর্ব, দেশের সম্পদ, কোনও রাজনৈতিক দলের পৈতৃক সম্পত্তি নয়। আমার সম্প্রীতির পক্ষে সেনার পক্ষে কিন্তু আমরা মোদি সরকারের তানাশাহীর পক্ষে নই। কেউ কোন প্রশ্ন করলে তাকে দেশদ্রোহী বলা হচ্ছে, বলা হচ্ছে সে দেশের বিপক্ষে।
আমরা চাই সন্ত্রাসবাদ ধ্বংস হোক যারা এই কাজ করেছে তাদের কঠোর শাস্তি হোক কিন্তু আপনি যদি ভাবেন সেনাকে নিয়ে ভারতের মাটিতে রাজনীতি করবেন আমরা তা মানব না। অভিনন্দন নিজের সততা, নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের জোরে ফিরে এসেছে, আর আপনি বলছেন আপনার দক্ষতায় ফিরে এসেছে। আপনি যদি এত বড় নেতা হন তাহলে পাকিস্তান থেকে হাফিজ সাহেব, ললিত মোদী, নীরব মোদী কে ফিরিয়ে আনুন।
আপনারা বলছেন ২০০-২৫০-৩০০ মানুষ মারা গেছেন তো সেই চিত্র সারা দেশের মানুষ কেন দেখবে না? এই প্রশ্ন মানুষের মনে উঠছে। আপনি মমতা দি র উন্নয়নের সঙ্গে পেরে উঠছেন না তাই ধর্মের ভিত্তিতে বাংলাকে ভাগ করতে চাইছেন, কিন্তু আমরা আমাদের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত বাংলাকে রক্ষা করব। দিল্লীর লাঞ্ছনা বঞ্চনার কাছে বাংলা কখনো মাথা নত করেনি, কারণ এই মাটি বীর যোদ্ধাদের মাটি, এই মাটি কখনও বশ্যতা স্বীকার করবে না, কখনও চাটুকারিতা করবে না। উন্নয়নের সাথে থাকুন, উন্নয়নের পক্ষে থাকুন।

NB

Leave a Reply