ধর্ম ও সমাজসেবা শিক্ষা ও পেশা

দারিদ্রতার সাথে লড়াই করে অবশেষে হার মানলো খবরের বোঝা টানার…

মলয় দে-র প্রতিবেদন, নজরে বাংলা : “রাতের পর রাত ক্লান্তিহীন,/ মানুষের সুখ-দুঃখের খবরের বোঝা বয়ে সে পৌঁছে দেয় দোরে দোরে কিন্তু তার খবর কে রাখে??”—- অন্য পেশার সঙ্গে যুক্ত হতে পারত হাওড়ার তরুণ সাংবাদিক অরিন্দম হাজরা। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি “সাংবাদিকতার”। শত দারিদ্রতাকে উপেক্ষা করেও মন থেকে ভালোবেসে নিজের সন্তানের মত প্রতিপালন করতেন সাংবাদিকতাকে। কিন্তু অবশেষে মনের সাথে লড়াই করে শেষ হলো এ বোঝা টানার। সাংবাদিকতাকে শুধু ভালোই বেসে গেলেন, শুধুমাত্র পারলেন না জীবিকা করতে কোনওদিন। বহুজন সমাদৃত “সাংবাদিক” শব্দটি এবং সাধারণ মানুষের বাহবায় মনের ক্ষুধা মিটালেও বাস্তবে পারিবারিক পেটের খিদে মেটে না।

শুধু অরিন্দম নয়- বিভিন্ন পোর্টাল, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া, প্রিন্টিং মিডিয়ায় নিঃশব্দে কাজ করে যাওয়া হাজারও প্রতিভাবান নতুন সাংবাদিকবন্ধুরা ধুঁকছেন এই মারণ রোগে। শত প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খবর সংগ্রহ করেন, রাত জেগে তা শৈল্পিক রূপদান করে পরের দিন সকালে হাজারো-লাখো সাধারণ মানুষের মনের কৌতূহল অবসান করেন ঠিকই কিন্তু অবশেষে সাংবাদিকবন্ধুর বাজারের খালি ব্যাগ, মুদি দোকানের ধার, মা-বাবা-স্ত্রী-পুত্রের সাথে দিনের পর দিন দারিদ্রতা ঘোচানোর বৃথা আশা, কাল্পনিক সফলতার মনগড়া মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিনের পর দিন শতজীর্ণ পরিবার তালি মেরে চালানোর অভিনয়। এর সঙ্গে যোগ হয় কাটমানি খাওয়ার
মিথ্যা গঞ্জনাও। কিংবা বিরুদ্ধ খবর করলেই জোটে দৈহিক লাঞ্ছনা, হুমকি, আইনি যাতনা। এ নতুন কিছু নয়, পূর্বেও ছিল বর্তমানেও আছে। শুধুমাত্র সাংবাদিকবন্ধুদের সংখ্যার পার্থক্য হয়েছে। সেসময় সংবর্ধনা আর সম্বোধনমূলক কিছু শব্দ। আর বর্তমানে লাইক আর কমেন্টের ঝড়।
প্রতিবাদ করতে ভুলে গেছি আমরা, অন্যের জন্য রাস্তায় নামতেও।
নিজকেন্দ্রিক ব্যস্ত এ সমাজে সঙ্ঘবদ্ধ ছাড়া কোনও সমস্যাই হয়তো সমাধান হয় না। আর যাঁদের দেখার কথা??? তাঁরাও একার কথা শোনে না..
তাই
এখন আর দেরী নয়..
ধর গো তোরা
হাতে হাতে ধর গো
আপন পথে ফিরতে হবে
সামনে মিলন স্বর্গ…..

NB

Leave a Reply