রাজনীতি লোকসভা ২০১৯

দশ বছর পর রামের মতোই অসিত মাল, জিতেও হাঁসতে পারলেন না

মহিউদ্দীন আহমেদ, বোলপুর (বীরভূম) :

দশ বছর আগে।
২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর সিপিআইএমের বোলপুর কেন্দ্রের তৎকালীন জয়ী প্রার্থী ডাঃ রামচন্দ্র ডোম জেতার পরে বলেছিলেন, আমি জিতলেও খুশি হতে পারছি না কারণ সারা দেশের পরিস্হিতি ভালো নয়।
দশ বছর পর।
বোলপুর কেন্দ্রেরই তৃণমূলের জয়ী প্রার্থী অসিত মালও একরকম তাইই বললেন। এবং তাঁর ম্লান মুখ বুঝিয়ে দিলো তিনি জাতলেও তিনি নিজে খুশী নন। দেশের পরিস্হিতি বড় খারাপ। এবং তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনটা ছিলো সেবারে বামফ্রন্ট সরকারের পতনের অশনি সংকেত।

দশ বছর পর।
২০১৯ সালের লোক সভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের জয় হলেও তার বিপরীত মেরুর বিজেপির বাড়বাড়ন্ত কি মনে পড়িয়ে দিচ্ছে না (?) ২০০৯ এর মতো, এটাও পরিবর্তনের একটা ইঙ্গিত।

গণনা কেন্দ্রে যখন চলছে ভোটগণনা তখন টিভি আর মোবাইলে মুখ গুঁজে গণনার খবর শুনতে ব‍্যস্ত সাধারণ রাজনৈতিক সচেতন মানুষ। বিজেপির অবিশ্বাস্য সাফল্য অনেকেই যেমন বিশ্বাস করতে পারছেন না তেমনি তৃণমূলের পতন নিয়ে বেশ চিন্তিত দেখাচ্ছিলো তৃণমূলের স্হানীয় থেকে জেলাস্তরের নেতৃত্বকে। আজ যতটা খুশি হবে আশা করেছিল তৃণমুল শিবির, ততটা তো হতে পারেনি, তার থেকেও চিন্তা বেড়েছে দলের অন্দরমহলে। আজ বীরভূমের তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ের অফিসে বেশ কিছু গাড়ি ও কিছু মানুষের ভিড় থাকলেও উচ্ছাস তেমন ছিল না। যে কজন দলীয় নেতা পার্টি অফিসের সামনের চায়রে বসেছিলেন সকলেরই ম্লান মুখ। নেই উচ্ছাসের আবেগ। দলীয় কর্মী নেতারা, যারা সারাদিন পার্টি অফিসে ছিলেন তাঁদের জন্য হোটেল থেকে অর্ডার দেওয়া খাবার আনা হয়। বিকেলের দিকে অসিত মালের সমর্থনে সবুজ আবীর মেখে নকুলদানা বিতরণ করা হলেও তা ছিল নামমাত্র উচ্ছাস। মনের ভিতর থেকে উচ্ছাস ভেসে আসেনি। এদিন সিউড়ীতে দলীয় পার্টি অফিসে জেলার মন্ত্রী আশীষ ব্যানার্জীকে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন অনুব্রত। তিনি আগে যেসব কথা বলেছিলেন, বিজেপি ১২০ পেলে রাজনীতি ছেড়ে দেব, সেসব প্রসঙ্গে বলেন, রাজনীতি করতে গেলে অনেক কিছু বলতে হয়। এদিন তাঁর বীরভূমের বোলপুর ও বীরভূম কেন্দ্রটিতে জয় হলেও সার্বিক চিত্র খারাপ হওয়াই চিন্তিত তৃণমুল মহল।
এদিকে জেলার স্পর্শকাতর জায়গাগুলিতে বিশেষভাবে নজরদারি চালালো জেলা পুলিশ। বীরভূমের পাঁড়ুই, ইলামবাজার, নানুর, বোলপুর, দুবরাজপুর সহ যে জায়গাগুলিতে আগাম অশান্তির আশঙ্কা করেছিলো পুলিশ সেই জায়গাগুলিতে সকাল থেকেই পজিশন নেই। এদিন বোলপুরের রাস্তাঘাট ছিল প্রায় শূন্য। অশান্তি ভয়ে বাড়ি থেকে সেরকম বের হয়নি শান্তিপ্রিয় মানুষ। গোটা বোলপুর শহরের দোকানপাট যেমন ছিলো বন্ধ তেমনি রাস্তা ছিল শুনশান। এদিকে বোলপুর কলেজ, হাইস্কুলের সামনের রাস্তা ব্যারিকেড করে ঘিরে দেয় পুলিশ।

NB

Leave a Reply