কলকাতা বিনোদন সিনেমা

আত্মপ্রকাশেই টলিউডে ‘অরূপ-স্বরূপের দোকান’ বন্ধ করার হুংকার ইআইএমপিসিসি-র

স্বপন কুমার দাস, নজরে বাংলা, কলকাতা : টলিউডে অরূপ-স্বরূপের দোকান বন্ধ করতে হবে। শনিবার আত্মপ্রকাশে এই এমন হুংকার দিয়ে শাসকদলের থরহরিকম্প বাঁধিয়ে দিল ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচারস কালচারাল কনফেডারেশন সংক্ষেপে ইআইএমপিসিসি। মধ্য কলকাতার মাহেশ্বরী সদনে টলিউডের নক্ষত্র অভিনেতা-অভিনেত্রী, প্রযোজক, টেকনিশিয়ানদের ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিল্পী, গায়ক-গায়িকারাও। স্বল্পপরিসর জায়গা হলেও প্রত্যেক বক্তার বক্তব্যের মধ্যে দর্শক আসন থেকে ‘জয় শ্রীরাম ধ্বনি’ দিয়ে সমর্থন জানানো অহরহ হচ্ছিল। প্রকারান্তরে এই সংগঠন বিজেপির স্টুডিওপাড়া সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হল শনিবার।
শিল্পীরা, টেকনিশিয়ানরা তাঁদের ন্যায্য প্রাপ্য আদায় করতে পারছেন না, প্রযোজকরা পয়সা ঢেলেও তীর্থের কাকের মত শাসকদলের দিকে তাকিয়ে থাকেন, তৃণমূলের অঙ্গুলিহেলনে ছবি বিক্রি করতে পারছেন না। এসব কিছুুর বিরুদ্ধে লড়াই করবে সংগঠন। এছাড়াও পরোক্ষে কিছু তৃণমূল নেতার কাটমানি খাওয়ার বিরুদ্ধে সরব হবেন তাঁরা। এমন বক্তব্য রাখলেন সংগঠনের সভানেত্রী ও বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পাল। সংগঠনের ভাইস চেয়ারপারসন সংঘমিত্রা চৌধুরী বলেন, টলিউডে মৌরসী পাট্টা চলছে। তার অবিলম্বে সমাপ্তি হওয়া দরকার। বিশ্বাস ব্রাদার্সের বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ করতে হবে। এটা আমাদের চ্যালেঞ্জ। জাতি-ধর্ম-রং আমরা দেখব না। যাঁদের ট্যালেন্ট আছে, ট্যালেন্টই তাঁদের পরিচয়। আপনারা যদি ট্যালেন্টেড হন তাহলেই কার্ড দেব। এখন সিনেমা শব্দটা একসঙ্গে নেই। সিনে তে মা বসাতে হবে।
বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, এখানে আমরা এসেছি কোনও দলের হয়ে নয়। নিজেদের, সকলের, টলিউডের, বাংলার কথা, বাংলার কৃষ্টির কথা ভেবে। তাঁদের বেঁচে থাকার জন্য, তাঁদের দুটো পয়সা বেশি পাওয়ার জন্য, আজকে জড়ো হয়েছে। কিন্তু অরূপ-স্বরূপের কল্যাণে আজকের টলিউডে যে অরাজকতা তৈরি হয়েছে, দলদাস প্রথা তৈরি হয়েছে। তৃণমূল না করলে কাজ পাওয়া যাবে না। তার বিরুদ্ধে এই সংগঠন কাজ করে যাবে। কাটমানির প্রসঙ্গ তিনি উত্থাপন করে বলেন, কাটমানির কথা এখন সকলেরই জানা হয়ে গেছে।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও সাংসদ দিলীপ ঘোষ এই সংগঠনের সংবিধান বই উদ্বোধন করে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, যাঁরাই তৃণমূলের কাটমানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হবেন আমরা তাঁদের পাশে আছি।

ইদানিংকালে দেখা যাচ্ছে, বিজেপির কোনও প্রোগ্রাম এখন ছোট করে করা যায় না। পথসভাটা একটা জনসভায় পরিণত হয়। প্রথমে আমরা মনে করেছিলাম ২০০-৩০০ জন উপস্থিত থাকবেন। এই অনুষ্ঠানে তাই ছোট্ট মাহেশ্বরী সদনের ঘরে বুক করতে বলেছিলাম। কিন্তু এত মানুষের উপস্থিতি এবং সংগঠনের পরিধি দেখে সেটা আন্দাজ করা যাচ্ছে টলিউডমহল ফিল্ম-মাফিয়াদের কাজে কতটা ক্ষিপ্ত, বীতশ্রদ্ধ।
এদিনের অনুষ্ঠানের সূচনা হয় জয়প্রকাশ মজুমদার দ্বারা প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্যে দিয়ে। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ জর্জ বেকার, পুলওয়ামা ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত জওয়ান মিলন চক্রবর্তী, ইআইএমপিসিসি-এর সাধারণ সম্পাদক সাধন তালুকদার, সংগঠনের চেয়ারম্যান বাবন ঘোষ, বিজেপি ডক্টর সেলের সভানেত্রী ডাঃ অর্চনা মজুমদার, যুগ্ম সম্পাদক অরুনাভ মজুমদার, সহ-সভাপতি বহ্নি বিকাশ বন্দোপাধ্যায়, অভিনেতা সুমন ব্যানার্জি, দোলা ব্যানার্জি, প্রযোজক সৌমজিৎ গাঙ্গুলী, অভিনেতা গৌতম দাশগুপ্ত, রাহুল বর্মন, পরিচালক ও প্রযোজক স্বপন সাহা, গায়ক সুদেব দে সহ ছোটপর্দা-বড়পর্দার টেকনিশিয়ান ও কলাকুশলীরা।

NB

Leave a Reply